scrobble.life
BDCommunity

সালামি যুদ্ধ!

ঈদের সালামি'র এই ব্যাপারটা আর যেকোনো এলাকার থেকে আমার দেখা মতে চট্টগ্রামের মানুষের কাছে খুবই আড়ম্বরপূর্ণ এখনো। সময়ের আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে জীবন অনেক আত্ম-কেন্দ্রিক, ক্যালকুলেটিভ, ঐতিহ্যের আড়ম্বর উদযাপনে নাইনটি'স কিডস এরা থেকে পিছিয়ে গেলেও, চট্টগ্রামে এখনো উদযাপনের সেসব ঘ্রাণ লেগে থাকে।

এই সালামি'র পাগলামি শুধু এখনো শিশু-কিশোরদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনা, বড়রাও আশায় থাকে খুব। ​ছোটদের তুলনায় প্রাপ্তির হার অনেক কম হলেও যেখান থেকে পাওয়া যায়, সেখানে পরিমাণে বেশী পাওয়ায় বড়দেরও পুষে যায় মোটামুটি, একদমই নগণ্য না। বড়রা বেশীরভাগ বড় ভাইবোন বা শ্বশুরবাড়ি (যদি বিবাহিত হয়) থেকে কিছু পায়। আর বাচ্চারা? ওরা তো যেখানেই পা রাখে, মনে হয় সবার ওপর সালামি দেওয়ার ওহি নাজিল হয়েছে! ডিমান্ড করলেই হাতে টাকা।

​কিন্তু...!!! একদল মানুষ আছে যারা এই দুই'এর কোনো কাতারেই পড়েনা। যারা বয়সে বড় হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ে করেনি বা বাচ্চা-কাচ্চা নেই—অর্থাৎ স্রেফ বয়সের দোষে বড়, কিন্তু সালামি পাবার মতো পজিশনে নিজেকে এখনো মানতে পারেনি। এদের জন্য সালামি জেতার প্রায় রণক্ষেত্রের মতই!

​ঈদে চট্টগ্রামে মানুষ যেমন লিশটি ধরে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, কাছের দূরের সবার বাসায় যাওয়ার আয়োজন তা আমি অন্য কোনো জেলায় দেখিনি।

সবার মত, আমারও বড় হওয়ার পর বরাবরের মতোই সব বন্ধ হয়ে গেছে, বিশেষ করে আমি সেই দলে পড়ে গেছি যে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং অবিবাহিত!! প্রতি ঈদ যায় খরার মতো খটখটে! তবে তা তেমন অনুভূত হয়না কারণ প্রায় সব ঈদেই আমার ছুটি থাকেনা, কাজ থাকেই। বাড়ি যাই ঈদের আমেজ প্রায় শেষে।

তার ওপর আমি সামাজিকতা এলার্জিক, একান্ত বাধ্য না হলে সামাজিকতা আমি সবসময় এড়িয়েই চলি। যার ফলে অনেকদিন হলো পরিবারের বাইরে কারও থেকে সালামি পাই না। (উল্টো যখন থেকে আমি সালামি দেওয়া শুরু করেছি, মানুষ আমাকে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে )।

​কিন্তু এবারের ঈদটা একদম অন্যরকম ছিল! হুট করে মনে হলো ছোটবেলার মতো সেই ঈদটা ফিরিয়ে আনি, যদিও আমি এখন বড়'র থেকে বুড়ো'র দলেই পড়ে যাচ্ছি!

​সেই আগের মতো শপিং করলাম (উইন্ডো শপিং, যেটা আমি চরম অপছন্দ করি)। নিজের স্টাইলের বাইরের হাবিজাবি সব জিনিস কিনলাম কারণ ঝলমলে ঈদ ভাইব নিয়ে ঈদি তুলতে যেতে হবে, ক্লাসি ভাইব নিয়ে গেলে হবেনা। জামা-কাপড়, সাজগোজে অত্যধিকতা এনে ব্যাপারটাকে আন্তরিকতায় দেখাতে হবে।

​সামাজিকতার এই চ্যালেঞ্জটা আমি একরকম মেনেই নিয়েছিলাম। এমন সব মানুষের বাসায় গিয়েছি যাদের আমি চিনতাম ঠিকই, কিন্তু কোনোদিন হয়তো সাক্ষাৎই হয়নি। দু'একটা উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, মেজোমামা'র শশুরবাড়ি, মায়ের নানাবাড়ি (!), ছোটমামা'র মেজো শ্যালিকা'র শশুরবাড়ি (>>), মামাতো বোনের মামাবাড়ি (<<), মা'র খালাতো বোনে'র শশুরবাড়ি ...আর এইগুলা হচ্ছে সব থেকে নিকট আত্মীয় (!!)র তালিকার কয়েকটি, পাড়া-প্রতিবেশী, দূরের আত্মীয়দের কথাতো বাদই দিলাম!

13774.png My AI creation

গত ১৫ বছরে যা সামাজিকতা করিনি, তা ঈদের ৫ দিনে করে ফেলেছি।!!

All the contents are mine, until mention otherwise!

Comments

No comments yet — be the first.