একদা এক পরিব্রাজক-সামা ছিলেন। ভ্রমণে যাপিত দিনগুলির কোন একটিতে তিনি এক শহরে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন তাঁরা সকলে বোঁচকা-বুঁচকি লইয়া হাহাকার করিতে করিতে মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় দিন গুনিতেছে। সমাপ্তি যখন আসিয়াই পড়িয়াছে, অর্থ-কড়ি লইয়া কী আর করিবো? - এমন ভাবিয়া শহরের কোন দোকানীই পরিব্রাজক-সামার নিকট হইতে অর্থ লইলো না। চামে পরিব্রাজক-সামা বিস্তর জিনিস কিনিয়া অথবা বিনা লেনদেনে মালিকানা অধিগ্রহণ করিয়া শহর ত্যাগ করিতে যখন উদ্যত হইয়াছেন, জানা গেলো মহাপ্রলয় তাহার আসিবার দিন একদিন পিছাইয়াছে।

পরিব্রাজক-সামা পরবর্তী শহরে পদার্পন করিলেন। এই শহর নাকি শোকার্ত, শার্ট প্যান্ট পরা মাঝি জানাইলো, লোকজন নিজ উদ্যোগে শোক পালন করিয়া আসিতেছে বৎসরের পর বৎসর। বহুকাল আগে এক কবির বিয়োগান্তগাথা আর শোককাব্য হইতে এই রীতির প্রচলন হইয়াছে বলে জানিতে পারিলেন পরিব্রাজক সামা। সে শহরকেও যথাসময়ে বিদায় জানাইলেন তিনি। বিদায়ের আগে জানিতে পারিলেন, কবির কাব্যগ্রন্থখানা পাশের শহরের লোকেরা দৈববাণীরূপে ঠাওর করিতেছে।

পরবর্তী শহরে গমনপথে দেখিলেন সৈন্যসামন্তরা চলমান লোহার তালমার্কা সাঁজোয়া গাড়ি লইয়া প্রথম শহরের প্রতি উর্ধ্বশ্বাসে ধাবিত হইয়াছে। শহর ধূলিসাৎ করিয়া দেওয়ার ইচ্ছা তাহাঁদের। কোথা হইতে হুট করিয়া এক সৈনিক আসিয়া পরিব্রাজক-সামাকে বলিলেন, উহারা পাপ করিয়াছে। দৈববাণী দিয়া মহাপ্রলয় ডাকিয়া আনিতেছে। উহাদের আগামিকাল্য বোঙ্গাবোঙ্গা দিলে মহাপ্ললয়-সামা আসিবেন না, সকলে বাচিয়া যাইবো। বলিয়াই হুট করিয়া সৈনিক চলিয়া গেলো।
পরিব্রাজক-সামা তখন তিন শহরের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজিয়া পাইয়া অস্ফুটে বলিয়া উঠিলেন, "Fucking Lunatics!"
Kino's Journey অ্যানিমের একাংশ নিয়ে লিখেছিলাম কয়েকবছর আগে। এইরকম ধারার বাংলার পেছনে অ্যানিমের সামগ্রিক আবহ এবং অ্যানিমেশন স্টাইলের যোগসূত্র আছে। স্টাইলে আসলে ঝামেলা পাকাই না তেমন, রুচিশীল হলেই ভালো লাগে। তবে জিবলির আর্টস্টাইলের প্রতি আলাদা দুর্বলতা আছে। আবার মুশিশি, মনোনোকের ডিস্টিঙ্কটিভ আর্টস্টাইল পছন্দ করি। কিনোর জার্নিতেও তাই। সেপিয়া ফিল্টারে লম্বা লম্বা রেখা - আলাদা বৈশিষ্ট্য। দেখে মনে হয় বহুকাল আগেকার গল্প, অথবা বহুদূরের কোন সভ্যতার। আজকের বাংলা সাহিত্যের লেখার চলের সাথে প্রাচীন লেখার যেমন বহু দূরত্ব।
কিনোর অল্পবয়স্কা ট্রাভেলার, সঙ্গী রোবোট মটরসাইকেলে সওয়ার হয়ে দুনিয়া চষে বেড়ায়। কিনোর দুনিয়া কল্পিত। জাতিগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত, জাতিসঙ্ঘের মত কিছুও নেই। কিন্তু ওদের ক্রাইসিস যেমন আমাদের জগতের প্রতিবিম্ব। প্ররিব্রাজকের চোখে কিনো সব অবলোকন করে শহর থেকে শহরে, দেশ থেকে দেশে। ওর যাত্রা থামে না।
কিনোস জার্নি খুবই টাইটভাবে বানানো কাজ। অ্যানিমে সিরিজের স্বাভাবিক কমেডি, যা কিনা অ্যাপোলোজিস্টরা কমেডি রিলিফ বলে ডাকে, তা একদমই নেই। এটার এক একটা করে এপিসোড শৌনেনওয়ালাদের বানাতে দিলে ৩০ পর্বের এক একটা আর্ক বানিয়ে ফেলতে পারত। কোন অংশ অহেতুক টেনে লম্বা করেনি। প্রতি পর্ব রেশ রেখে যায়।
২০১৭ সালে একটি রিমেক বানিয়েছে, ওটা ভালো করেনি। অরিজিনালটার যে আবেদন ছিলো আবহে, স্টাইলে — সেটাই নষ্ট করে ফেলেছে। দেখলে আগেরটাই (২০০৩) দেখা উচিৎ। হ্যাপি ওয়াচিং!

About Me


Twitter - https://twitter.com/not_a_c1nephile Youtube - https://www.youtube.com/channel/UCg3TwYk--HKIsRmnvhob1Mg

