হ্যালো সকল মুভি প্রেমীরা আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজ একটা চাইনিজ মুভির কথা আপনাদের জানাবো আর দেখার জন্যেও সাজেস্ট করবো। মুভিটির নাম CJ7, আর এই মুভিটির পরিচালনা করেন Stephen Chow এবং আমাদের জন্য মুভিটি রিলিজ পায় ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। মানুষ অবস্য বেশিরভাগ সময় বাংলা ইংরেজি ও দু একটা কমন ভাষার মুভি দেখতে পছন্দ করলেও আমার কিন্তু যেকোনো ভাষার মুভি দেখতে ভালো লাগে। বিশেষ করে যেসব ভাষা জানি না বা বুঝি না সেইসব ভাষার মুভি দেখতেই আমার বেশি ভালো লাগে। আর তাই বলা যায় চাইনিজ ভাষার এই মুভিটিও আমার খুব ভালো লেগেছে। মিুভিটির মুল চরিত্রে অভিনয় করেছে একজন শিশু শিল্পী এবং তার অভিনয় দেখে যারা মানুষ তারা একটু হলেও চোখের জল ফেলার কথা।
একজন দরিদ্র পিতার ছোট্ট ছেলে, তার কষ্টেভরা জীবনেও কতো সুন্দরভাবে নিজের আত্ম-সম্মান রক্ষার করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে তার পড়াশুনা করে সুন্দর স্বভাবিক জীবনে বাঁচার সামগ্রীক দৃশ্য আমরা CJ7 মুভিটিতে দেখতে পাই। মুভিটিতে বর্তমান সময়ের আলালের ঘরের দুলালদেরও একটা বাস্তবিক ও সুন্দর শিক্ষার চমৎকার দৃশ্য রয়েছে, যা ছোট ছোট শিশুগুলোকে অমানুষ না বানিয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃশ্যও রয়েছে। আরও লক্ষনীয় বিষয় ছিলো একজন দরিদ্র পিতার আদর ভালোবাসা ও সুশ্বাসন এবং সেই সুবাদে একজন সুশিক্সক ও কুশিক্ষকের তুলনা মুলক দৃশ্যও আমরা দেখতে পাবো সুন্দরভাবে।
মা ছাড়া একজন শিশুর বেড়ে ওঠা ও তার জীবনের মায়ের ভালোবাসা ও আদর যত্নের যে গুরত্ব তাও অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন পরিচালক সাহেব। আর সকল কিছুর মাঝে বিনোদনের একটা মক্ষম বস্তুতে দেখানো হয়েছে এলিয়েনের মাধ্যমে। যার ফলে মা ছাড়া ছেলেটিও তার আনন্দ খুঁজে পায় ছোট এলিয়েনর মাধ্যমে। মুভিটিতে আমরা আরও দেখতে পাবো বন্ধুসুলব কিছু সত্যিকারের সম্পর্ক যা বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই দেখা যায় না বললেই চলে। যেমন আমরা দেখতে পাই ছোট্ট শিশু ও তার বন্ধু এলিয়েন পুলুতটির মধ্যকার সম্পর্ক যেখানে ছোট্ট শিশুটির কষ্ট দেখে ছোট্ট এলিয়েন তার ক্ষমতা ব্যবহার করে তার বন্ধুর ফ্যানটি ঠিক করে দেয়া, এছাড়াও কাজ করতে যেয়ে ছোট্ট শিশু ডিকির বাবা আহত হয়ে মারা যায় তখন তার ছোট্ট এলিয়েনটি তার বন্ধুর কষ্ট দেখে সকল ইলেক্ট্রো শক্তি ব্যবহার করে ডিকির বাবাকে সুস্থ করে দেয়। তবে সেই সুবাধে ছোট্ট এলিয়েনটি প্রায় মরতে বসেছিলো বলা যায় এবং পরবর্তীতে ঠিক একইভাবে একটা স্পেস স্বীপে করে অসংখ্য এলিয়েন তাদের আরেক এলিয়েন বন্ধুকে বাঁচাতে চলে আসে। আর এমন বন্ধুসুলব দৃশ্যগুলো দেখার পরে বন্ধু শব্দের প্রতি এক অসাধারণ সম্মান চলে আসে।
মুভিটিতে আমরা দুই জন শিক্ষককে আমরা দেখতে পাবো, একজন মি. কাও আরেক জন মিসেস ইয়েন নামের ম্যাডাম। আর এই দুজনরে মধ্যে বর্তমানে ৯০% মি. কাওয়ের মত ভবিষ্যত প্রজন্মকে নষ্টকারী শিক্ষকে ভরে গেসে সকল ধরনের শিক্ষা মাধ্যমে। আর যার জন্যেই বেশির ভাগ শিশুর মেধা বিকাশের সময় মি. কাওয়ের মতো শিক্ষকদের দ্বারা মেধাগুলো বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যত সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে মি. কাওয়ের মতো শিক্ষকদের শিক্ষকতা থেকে দুরে রাখতে হবেই। আশা করি CJ7 মুভিটি আপনাদের ভালো লাগবে, তার পরেও বলতে হয় একেক জনের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ও বোঝার ক্ষমতা একেক ধরনের। আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তাও জানার আগ্রহ থেকে গেলো।
ধন্যবাদ