মুভির সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
JURASIC WORLD DOMINION মুভিটি পরিচালক Colin Trevorrow এর পরিচালনায় ২০২২ সালের ১০ই জুন রিলিজ পায়। আর মজার বিষয় হোলো আগের সিরিজের সকল অভিনয় শিল্পীদের এই পর্বে একসাথে আমরা দেখতে পাবো। ১৪৬ মিনিটের মুভিটিতে আমরা দেকতে পাবো এ্যাকশন ,এডভেঞ্চার ও সাইন্স ফিকসনের উপস্থাপন একসাথে।
JURASIC WORLD সিরিজের আগের মুভিগুলো যারা দেখেছেন , তারাই জানেন এডভেনচার ও একশনের বিনোদন কেমন ছিলো। তবে আমি ২য় পার্ট দেখে ভালো লাগায় পরের পর্বের অপেক্ষায় ছিলাম ও গতকাল নতুন পার্ব JURASIC WORLD DOMINION দেখে ফেললাম। একটু বলা দরকার মুভির মাধ্যমে আমি বিনোদনের পাশাপাশি কিছু জিনিস জানতে ও বোঝার চেষ্টাও করি। যেমন মুভির গল্পের মাধ্যমে সমসাময়িক সময়ের মানুষের সর্বোচ্চ জানার পাশাপাশি বাস্তবায়নের নুন্যতম একটা সীমারেখা বুঝতে পাড়ি। আর মুভিটি ভালো লাগার রেটিং যদি ৪/৫ হয় তাহলে মুভিটি সম্পর্কে লেখার আগ্রহ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় JURASIC WORLD DOMINION মুভিটি নিয়ে লেখা।
আর আমি এও বিশ্বাস করি যে, মুভি হোলো এমন এক মাধ্যম, যেখানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের দেখা না দেখা এবং জানা অজানা বিসয়বস্তুর ব্যাতিক্রম ধরনের উপস্থাপনের সর্ববৃহৎ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ঠিক তেমনি JURASIC WORLD DOMINION মুভিটিতে প্রাণীজগৎকে নিয়ে আমাদের এক শ্রেণীর মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের দৃশ্য আমরা দেখতে পাই। দৃশ্যের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো একটা সময়কে দেখানো হয়েছে – যেখানে পাণীজগতের সাথে মানুষের তাল মিলিয়ে চলতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্বাভাবিক প্রাণীজগতের প্রাণীদের আধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে বানিজ্যিক স্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যবহারের ফলে, প্রাণীজগত ও সাধারণ মানুষের কতো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তারও কিছু নমুনা দৃশ্য দেখা যায়।
এই মুভিটি তৈরি করা হয়েছে JURASIC সিরিজের ২য় পর্বের মুভির সমাপ্তির ৪ বছর পরের ধারাবাহিক দৃশ্যকে কেন্দ্র করে। আর তারই ধারায় মুভির দৃশ্যে আমরা দেখতে পাই, প্রাণী জগতের সাথে মানুষের মানিয়ে নিয়ে বসবাস করার দৃশ্য ও তার ফলাফলের কিছু নমুনা দৃশ্যও। অর্থাৎ মানুষের জীবন যাপন ও প্রাণীজগতের জীবন যাপন একসাথে বসবাস করার কারণ এবং তার অনিয়ন্ত্রীত সিস্টেমে চিন্তা ভাবনার ফলে, যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিলো তার দৃশ্যও দেখতে পাই।
দেশের সকল সিস্টেম দিয়েও সরকার প্রাণীজগত ও মানুষের সুরক্ষা দিতে ব্যার্থ হওয়ায়, এই দায়িত্ব দেয়া হয় BIOSYN কোম্পানিকে। আর এই সুযোগে BIOSYN কোম্পানী Dolomite Mountains এ অভয়অরণ্য বানিয়ে, সেখানে ডাইনোসরদের নিয়ে গবেষণার নামে অবৈধ ব্যবসার গবেষণা শুরু করে দেয়। তবে সেখানে দেখা যায় বিভিন্ন গবেষণার পরীক্ষামূলক কাজে ডাইনোসরদের ব্যবহার করে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর দেখা যায় CLEAR তার দুই সঙ্গীকে নিয়ে BIOSYN এর একটা গোডাউনে যায় এবং একটা অবহেলিত মৃত্যু পথযাত্রী ডাইনোসরের বাচ্চাকে তারা চুরি করে বাঁচানোর চেষ্ঠা করে। আর এভাবেই তারা কোম্পানীর থেকে ডাইনোসরদের বাঁচানোর চেষ্ঠা করে যাচ্ছে জীবন বাজী রেখে।
মুভির দৃশ্যে আরও পাই প্রধান চরিত্র OWEN একটা ডাইনোসর ধরে ফেরার সময় অবৈধ ব্যবসায়ীরা মেরে ফেলার কথা বলে ডাইনোসরটি নিয়ে যায়। তার পড়ে জানা যায় OWEN ওই বনের ভেতর CLEAR এবং Chorlottle Lockwood এর নাতনী Maisie কে নিয়ে বসবাস করছে। কারণ আগের পর্বেই জানা যায় Maisie ক্লোন থেকে জন্ম নেয়া স্পেশাল শিশু, আর বিভিন্ন বড় বড় গবেষণার জন্য তার DNA মহা মূল্যবান, তাই অবৈধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাঁচানোর জন্যে OWEN ও CLEAR বাবা মায়ের দায়িত্ব নিয়ে Maisie কে বাঁচানোর চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। আবার সেখানে তারা Blue র্যা পটর কে তার ছোট বাচ্চাসহ দেখা যায়, এই বাচ্চা র্যা পটারটিও ক্লোন পদ্ধতিতে জন্ম নিয়েছে দেখা জানা যায়। আর এখানে Maisie পোষ মানানোর সময় ছোট বাচ্চা র্যা পটারের নাম দেয় Beta।
অন্য এক দৃশ্যে দেখা যায় এক ধরনের পঙ্গপাল একটি ক্ষেতের সব ফসল নষ্ট করে ফেলছে, আর দুটি বাচ্চা একটি পঙ্গপালকে আটকেছে যেনে Ellie তা চেক করে এবং দেখতে পাড়ে যে পঙ্গপাল অন্য একটি ফসলের ক্ষেতে কোনো ক্ষতি না করে, একটি নির্দিষ্ঠ ক্ষেতের ফসল নষ্ট করছে পঙ্গপাল। তখন Ellie জানতে পাড়ে যে যারা BIOSYN এর বীজ ব্যবহার করে না সেইসব ক্ষেতে এই পঙ্গপাল আক্রমণ করেছে এবং এবাবে চললে বিশাল খাদ্য সমস্যায় পড়তে হবে আগামীতে সবাইকে। তাই Ellie তার বন্ধু Alan কে নিয়ে BIOSYN কোম্পানীতে যায় এবং Ramsay তাদের সব ঘুরে দেখাবে ও জানাবে। পড়ে দেখা যায় BIOSYN কোম্পানীতে Maisie কে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে Ellie সব তথ্য জেনে নিয়ে Maisie কে নিয়ে Ramsay এর সাহায্যে সেখান থেকে পালায় এবং OWEN ও তার সঙ্গীদের নিয়ে সেখানে গেলে তাদের দেখা হয়ে যায়।
একটা বিষয় লক্ষ করা যায়, BIOSYN কোম্পানী এমন কিছু অবৈধ কাজ যাচ্ছে যার ফলে সমগ্র প্রাণীজগৎ ও সাধারণ মানুষেরা দৈনন্দিন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলো। আর সেই জন্য ওই কোম্পানীতে কাজ করার পরেও Ramsay ও প্রফেসর Ian Malcolm সাহায্য করে যাচ্ছিলো Ellie ও Alan কে এইসব কাজের তথ্য সংগ্রহ করার জন্যে BIOSYN কোম্পানীর বিরুদ্ধে। অবশেষে দেখা যায় BIOSYN এর পরিচালক Dr. Lewis Dodgson পঙ্গপালের প্রমাণ নষ্ট করার জন্য ল্যাবে আগুন ধরিয়ে দিলে, পঙ্গপালের মাধ্যমে সমস্ত বনে আগুন লেগে যায়। আর এভাবেই চমৎকার মুভিটি শেষ দেখতে পাই।
ধনবাদ।