হ্যালো,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন ও সুস্থ আছেন। আমরা বর্তমান সময়ে আধুনিক ও সময় নির্ভর মুভি দেখতে পাই, যেখানে বেশিরভাগ সময় এতো কিছুর সংমিশ্রণ থাকে । যা দেখার সময় বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন বিনোদনের সংযোযন করার মাধ্যমে মুভির মূল গল্প খুঁজে পেতেই কষ্টকর হয়ে যায়। কিন্তু যখন আগের মুভিগুলো দেখতে বসি তখন একটা বিশাল পার্থক্য দেখতে পাই বর্তমান সময়ের মুভিগুলোর সাথে।
যেমন আমার মনে পড়ে ২০০১ সালের রিলিজ হওয়া একটি চমৎকার মুভি শাওলিন সকার এর কথা, সাধারণ দৃশ্যের অবলম্বনে একটা ছোট্ট গল্পকে এতো সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছিলো যা সত্যিই বলার মতো। আমার পছন্দের মুভির একটা বলা যায় শাওলিন সকার মুভিটি, যার ফলে মাঝে মাঝে দেখতে মন চাইলেই দেখে ফেলি। তবে আজ ১৯৭৬ সালের রিলিজ হওয়া জ্যাকি চেং এর শাওলিন উডেন ম্যান মুভিটি দেখলাম ও সত্যিকারভাবে বলতে হয় ভালো লেগেছে। গল্পের কাহিনী খুবই সাধারণ হলেও গল্পের শুরু এবং সমাপ্তি দেখানো হয়েছে অত্যন্ত সুন্দরভাবে।
একজন শিশু ছোটবেলায় নিজের চোখে পিতার মৃত্যু দেখে তার নিরবে প্রতিশোধ পরায়ন হওয়া ও সুন্দরভাবে সফল হওয়ার স্বাভাবিক জীবন যুদ্ধেরেএই মুভিটি তৈরি করা হয়েছে। যেখানে একজন এতিম শিশুর পিতা হত্যার প্রতিশোধ নেবার জন্য তার কি করা প্রয়োজন তার সঠিক সিদাধান্ত নেবার নিদর্শন দেখতে পাই। সকল ব্যর্থতার মাঝেও সফল হবার যে প্রবল শক্তি তার সুন্দর দৃশ্যায়ন রয়েছে মুভিটিতে। তার সাথে এও দেখা যায় একজন মানুষ তার শিক্ষার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার জন্য যেখান থেকে পেড়েছে শিক্ষা নেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টার কিছু দৃশ্য। যার মাধ্যমে জানতে পাড়া যায়, আমরা মানুষ জীবনে যদি সঠিক শিক্ষা নেই তা যে একজন মানুষের জন্য পবিত্র সম্পদ এবং মানুষের ভালোর জন্যে পবিত্র শিক্ষাগুলোকে মানুষের ক্ষতির জন্য ব্যবহার করা ঠিক না।
আর এই শিক্ষার চমৎকার দৃশ্য দেখতে পাড়া যায় - যখন জ্যাকি ভিলেনের শেখানো কুংফু কৌশল অনুশীলন করছিলো, তখন একজন নারী ন্যান তার অনুশীলন কৌশল দেখেই বুঝতে পেড়েছিলো যে বন্দী করা আসামীর ধ্বংসাত্মক ও সবার জন্যে ক্ষতিকর এমন কুংফু অনুশীলন করছিলো। আর তাই তাকে সেই কৌশল ভুলে যাবার জন্যে ব্যতিক্রম কৌশল অনুশীলন করতে দেয়। আর সেই সাথে তাকে জানায়, শিক্ষার অপব্যবহার করে মানুষের ক্ষতি করেছিলো বলেই ভিলেনকে বন্ধি করে রাখা হয়েছে। তাই আমাদের শিক্ষার অপব্যবহার না করার সুন্দর ম্যাসেজটিও মুভিটিতে সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। আর এটাও বুঝতে পাড়া যায় খুব সহজেই যে খারাপ চিন্তার মানুষের জন্য সবসময় খারাপ সমাপ্তি অনিবার্য ।
পিতার মৃত্যু দেখার পরে একজন এতিম শিশুর চুপ হয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলার দৃশ্যের মাধ্যমে গোপনে নিজেকে একজন সুদক্ষ যোদ্ধা হিসেবে তৈরি করা এবং সবার মঙ্গলের জন্যে পরবর্তিতে নিয়োজিত রাখার শিক্ষা আমরা মুভিটিতে দেখতে পাবো। যেখানে হিসেব করে বলতে গেলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের খারাপ কাজগুলোর চেয়ে বেশি শিক্ষামুলক ও স্বাভাবিক চিন্তার বাস্তবায়নের দৃশ্য দেখানো হয়েছে অত্যন্ত সুন্দরভাবে।
আর মাঝে মধ্যে এমন শিক্ষামূলক ও স্বাভাবিক জীবন কেন্দ্রীক মুভি দেখতে আমার ভালোই লাগে। বর্তমান সময়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সহ , অস্রের ঝঞ্জনানী ও রক্তক্ষয়ি ধ্বংসাত্মক মুভি দেখতে যখন আর ভালো লাগে না তখন খুঁজে নেই আগের দিনের জীবন কেন্দ্রীক মুভিগুলো। জটিলতার মাঝে বিনোদনের চেয়ে জীবনের ক্ষতিটাই বেশি দেখতে পাই, তার জন্যে সাধারণের মাঝেই বিনোদনের আনন্দ খুঁজে পাই। জীবনকে জটিল করলেই কঠিন, ঠিক তেমনি জীবনে সহজ করলেই সবকিছু স্বাভাবিক।
আপনারাও মন চাইলে দেখতে পাড়েন পরিচালক ও অভিনেতা Chen Chi hwa এর পরিচালনায় Shaolin Wooden Men মুভিটি। আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের।
ধন্যবাদ।